ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ নভেম্বর ২০২২ ||  ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯ ||  ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকাশের সময়:
১৩:২১, ২৩ নভেম্বর ২০২২

আমাদের বার্তা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে জীনের বাদশা আটক

প্রকাশের সময়: ১৩:২১, ২৩ নভেম্বর ২০২২

আমাদের বার্তা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে জীনের বাদশা আটক

কুড়িগ্রামে জীনের বাদশা চক্রের মূল হোতা মো. মেহের আলী (৩৫) নামের এক প্রতারককে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। মেহের আলী কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কৃষ্ণপুর চরুয়াপাড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে।

গত সোমবার রাতে মেহের আলীকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। 

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী বাদীর বড়বোনের সংসার জীবনে সন্তান না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা গ্রহণ করে সুফল না পাওয়ায় অজ্ঞাত পরিচয়ের মাধ্যমে মোবাইলে মেহেদী নামের কবিরাজের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে জ্বিনের বাদশা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয় এবং জানায় জ্বিনের মাধ্যমে সে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে। 

পরবর্তীতে ভিকটিমের গর্ভধারণের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতারণা মূলকভাবে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সে ভিকটিমের পরিবারের কৌশলে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের জানায় যে বাড়ির ভেতরে টাকার ড্যাগ আছে, জ্বিনের মাধ্যমে তা উঠিয়ে দেবে, এ কথা কাউকে বলা যাবে না বলে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তাবিজ কবজ করে। এরপর মেহের আলী  ভিকটিমের পরিবারের কাছে একটি প্যাকেট দেয় এবং এর ভেতরে স্বর্ণের কয়েন আছে মর্মে জানায়। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। 
তবে উক্ত কয়েন তাহাজ্জুদের নামাজের সময় ঘর অন্ধকার করে হাতে হাত মোজা পরে মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে দেখতে হবে। উক্ত বিষয়ে স্বর্ণের কয়েন দেওয়ার কথা বলে আরও প্রায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক।

অভিযোগের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম সদর থানার একটি চৌকস টিম প্রাথমিক তদন্ত ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে নিজেকে জ্বিনের বাদশা দাবি করা কবিরাজ মেহের আলীকে গ্রেফতার ও কয়েন, হরিণের চামরার টুকরো, মোবাইল ফোন, তাবিজ কবজ জব্দ করে পুলিশ। 

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমীন বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে চতুরতার সঙ্গে স্বর্ণের কয়েনের লোভ দেখিয়ে নিজেকে জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে জ্বিনের বাদশা পরিচয়দানকারী মেহেদী নামে পরিচয় দেওয়া প্রতারক মেহের আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।