ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪ , ৬ বৈশাখ ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

শিখন ঘাটতি পূরণে সিলেবাসে কাটছাঁট

শিক্ষা

রুম্মান তূর্য 

প্রকাশিত: ০০:২০, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সর্বশেষ

শিখন ঘাটতি পূরণে সিলেবাসে কাটছাঁট

করোনা মহামারির কারণে চার বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার পর আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে স্বাভাবিক সিলেবাসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিলো শিক্ষা প্রশাসনের। তবে, মহামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শিখন ঘাটতি নিয়ে মাধ্যমিকের (এসএসসি ও সমমান) গণ্ডি পার হয়ে আসা ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার্থীদের আরো একবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। গত বছর বা চলতি বছরের মতো একই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে আগামী বছরের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

তবে সব বিষয়ে, পূর্ণ সময়ে ও পূর্ণ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষার্থীদের। করোনা মহামারির থাবায় এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণি থেকে শিখন ঘাটতিতে রয়েছেন বলে মনে করে শিক্ষা প্রশাসন। 

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় ২০২৩ ও ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মতো একই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তে আসে শিক্ষা প্রশাসন। একাধিক সূত্র দৈনিক আমাদের বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

প্রসঙ্গত, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমানে পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, আগামী বছর বা ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই স্বাভাবিক বা পূর্ণ সিলেবাসে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিলো। তবে, বলা হচ্ছে, এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ঠিকঠাক ক্লাস করতে পারেননি। তাই ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে যে পরীক্ষা হয়েছে এবং ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে যে পরীক্ষা হবে-সেই একই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সব বিষয়ে, পূর্ণ সময়ে ও পূর্ণ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

অর্থাৎ গত বছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী আয়োজন করা হলেও ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমানের প্রতি পত্রের পরীক্ষা ব্যবহারিকসহ ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে বহুনির্বাচনিসহ লিখিত পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা পুরো তিন ঘণ্টা সময় পাবেন।

জানা গেছে, করোনা মহামারিতে শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে গত তিন বছর ধরে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হচ্ছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। চলতি বছর জুনের শেষ দিকে (ঈদুল আজহার পর) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও হবে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। যদিও গত ১৮ ডিসেম্বর আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সব বিষয়ে, পূর্ণ সময়ে ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে গত ২৮ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় শিক্ষা প্রশাসন সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে দৈনিক আমাদের বার্তাকে নিশ্চিত করেছে সূত্র। সে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার জন্য প্রণীত সংক্ষিপ্ত বা পূনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা নেয়া হবে। 

আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে অষ্টম শ্রেণিতে থাকার সময় থেকেই শিখন ঘাটতিতে ছিলেন। করোনা মহামারির কারণে ওই বছর মার্চের শুরুতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। মহামারিতে আহত শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা দিয়েছিলেন। 

সূত্র জানায়, ওইদিনে সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পূর্ণাঙ্গ ক্লাস না পাওয়া ও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি দেয়া এ শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে নেয়া হলে তা বাড়তি চাপ হয়ে যেতে পারে। আবার শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে এ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয়েছে ওই বছরের অক্টোবর থেকে। তাই তাদের ক্লাসের ঘাটতি রয়েছে তিন মাস। সভায় এ ব্যাচটিকে ‘কোভিডের কারণে একাডেমিকভাবে বঞ্চিত একটি ব্যাচ’ বলেও আখ্যায়িত করেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম। 

এনসিটিবি আরো বলে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রায় সব বিষয়ে শিখন ঘাটতি নিয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে এবং উচ্চমাধ্যমিকেও তাদের পূর্ণ সেশনে পর্যাপ্ত ক্লাসের সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে সভায় আলোচনা করে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। 

জনপ্রিয়