ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

তেজগাঁও কলেজ উপযুক্ত বিদ্যাপীঠ: অধ্যক্ষ 

শিক্ষা

আমাদের বার্তা প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১৫ মে ২০২৪

সর্বশেষ

তেজগাঁও কলেজ উপযুক্ত বিদ্যাপীঠ: অধ্যক্ষ 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাদের খুশি হওয়া উচিত। আপনারা ভুল সিদ্ধান্ত নেননি তেজগাঁও কলেজ একটি উপযুক্ত বিদ্যাপীঠ, যেখানে আপনারা ভালোভাবে মানুষ হতে পারবেন। এর নিশ্চয়তা আমরা আপনাদেরকে দেবো।

গত মঙ্গলবার কলেজের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ফিন্যান্স ব্যাংকিং এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা অনেক সৌভাগ্যবান যে, আমাদের এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম কমপক্ষে ছয়টি ভাগে ভাগ করে করতে হচ্ছে এই কারণে, যে বসতে দিতে পারবো না এটা একটা জনসভায় পরিণত হবে। 

এর আগে তিনি আরো বলেন, এতোক্ষণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন আমাদের প্রিয় উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আঞ্জুমান আরা আপা। আজকে এমন একটা দিন আমরা তেজগাঁও কলেজে ওরিয়েন্টেশন করছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আজকে ওরিয়েন্টেশন করছে তারা।

আপনাদের এই কলেজে ২৮টি ডিপার্টমেন্ট এর মধ্যে চারটি ডিপার্টমেন্ট প্রফেশনাল, বিবিএ কম্পিউটার সায়েন্স ট্রিজন, থিয়েটার ও টুরিজম।
এই চারটি ডিপার্টমেন্টের ভর্তি প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। আর ২৪টি ডিপার্টমেন্টে আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় রিলিজ স্লিপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী এই কলেজে ভর্তি হয়েছে যা বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীনে যেকোনো কলেজের সংখ্যায় দ্বিগুণেরও বেশি। ২৪টি ডিপার্টমেন্টের ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে আরো তৃতীয় রিলিস সিলিপের মাধ্যমে ভর্তি হবে।  

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আপনারা যা হতে চান তাই হতে পারবেন। দুটি পথ আপনাদের দিকে খোলা, যা হতে চান আজকের এই দিনে আপনাদের যে বয়সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না আপনারা যদি শুধুমাত্র বাবা-মা, অভিভাবক, ভাই-বোনদের কথা শোনেন এই পৃথিবীর বাস্তবতা যদি বোঝেন। 

এই পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই তেজগাঁও কলেজে পড়ে আমি কী করবো। তাহলে এটা আপনার ব্যক্তিগত হতাশা কিন্তু এই কলেজ থেকে পড়ে বাংলাদেশের প্রতিটি চাকরিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা চান্স পেয়েছে। 

প্রতি বছর সেটি ঘুরছে। এমনো ঘটনা আছে পাস করে কারওয়ান বাজারের লিফটম্যান হিসেবে কাজ করছেন তেজগাঁও কলেজের স্টুডেন্ট আবার ভালো পজিশনেও তারা বিশেষে চাকরি করছেন, আবার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হচ্ছে ন্যাশনাল কোম্পানিগুলিতে, ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। ঠিক অন্যদিকে সচিবালের এক বন্ধু অফিসার সেই বন্ধুর আরেকজন পিয়ন চা বানিয়ে দিচ্ছেন। 

প্রফেসর ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আপনারা কলেজের স্টুডেন্ট এখন আপনারা কোন দিকে যাবেন সেটি নির্ভর করবে আপনাদের ওপর। নিশ্চয়ই আপনাদের বাবা-মায়ের কান্না হতে চান না। কখনো সফলতা এমনি এমনি আসে না। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। 

আপনি ফিন্যান্স পড়েন, ভালো কথা আপনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়েন, ভালো কথা কিন্তু বাংলাদেশ বাংলাদেশের ইতিহাস সে বিষয়বস্তু আপনাকে পড়তে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আপনাকে পড়তে হবে। আপনাকে বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি পড়তে হবে। 
আজকে এই তেজগাঁও কলেজের থেকে কোন সাবজেক্টে পড়েন এটা বড় কথা নয়। তোমরা প্রত্যেকে স্পোকেন ইংলিশ-এর রেজিস্ট্রেশন করে এটা কিন্তু এক্সট্রা কারিকুলাম। 

ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে যে ক্লাস হয় শুরু থেকে সেই ক্লাসে ভর্তি হয়ে আপনাদের ইংরেজির দুর্বল কমিউনিকেটিভ ইংলিশে দুর্বলতা কাটিয়ে জন্য চেষ্টা করবেন। 

তিনি বলেন, আপনাদের এই কলেজে কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্ট-এর অধীনে প্রোগ্রামিং ক্লাস তোমাদের আইসিটিতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি ট্রেন শেখানো হয় টানা জব মার্কেটে জব পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের কোনো কলেজ নেই যে কলেজের শিক্ষার্থীদের কে বিনা টাকায় এই প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে এসে ওই শিক্ষার্থীদেরকে আইসিটিতে সমৃদ্ধ করে। 

এমন ইতিহাস নেই কিন্তু তেজগাঁও কলেজে আপনারা বিভাগীয় শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামিং ক্লাসে ভর্তি হয়ে নলেজ গাদার করবেন। 

যেখান থেকে গুণীজন তৈরি হয়, সেই সমস্ত বিদ্যাপীঠের রং কিন্তু আমাদের তেজগাঁও কলেজের রং থেকে ভিন্ন নয়। 
আপনারা তো আমাকে পরিচ্ছন্ন রাখবেন চিন্তা মেধায় মননে। আমি আপনাদেরকে একটু উপদেশ দিবো প্রতিদিন আপনারা আয়নাতে পাঁচবার নিজেদের চেহারা দেখবেন।

নিজের চেহারা দেখবেন না আপনি দেখবেন আপনাদের অস্তিত্বকে, আপনি কে? আপনার নিজেকে চিনতে হবে। 
আপনি আপনার বাবা- মায়ের সন্তান আপনার এখন আত্মপরিচয় হয়েছে। শিক্ষার্থীকে বলা হয় ইন্ট্রোডিউজ ইউরসেল আপনি তখন কীভাবে বলবেন এই মুহূর্তে থেকে আপনি  আপনার পরিচয় দিবেন আমি অমুক আমি তেজগাঁও কলেজের ফিন্যান্সের স্টুডেন্ট।

শিক্ষকদের বলবো, আপনারা আরো যত্নশীল হবেন শিক্ষার্থীদেরকে পড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বোঝানোর ক্ষেত্রে।  
আজকের এই কমিউনিকেশন যুগে বাসায় ঠিক একদিন লক্ষ করে দেখলাম সে পেপার এর ওপরে হাত দিয়ে ছবি বড় করার চেষ্টা করছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোন রাতে চালাতে ফোনে এক্সপ্লোর করলে যেমন বড় হয় নেশা হয়ে গেছে। 

আপনাদের বলবো আপনারা দয়া করে এই সোশ্যাল কমিউনিকেশনের সময়টাকে নির্দিষ্ট করে ফেলবেন।  আমি যা অনুরোধ করেছি, বলেছি আপনাদের সফলতার জন্য বাবা-মায়ের জন্য। আমি চাই আপনাদের সবার জীবন সফল হোক। 

তোমরা সবাই নিয়মিত ক্লাসে আসবেন পড়াশোনা করবেন। আমরা সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ মানুষের পরিণত হবেন।
 

জনপ্রিয়