ঢাকা সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪ , ৪ আষাঢ় ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আলটিমেটাম

শিক্ষা

আমাদের বার্তা, ঢাবি

প্রকাশিত: ০০:১০, ২১ মে ২০২৪

সর্বশেষ

সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আলটিমেটাম

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন আগামী ২৫ মে এর মধ্যে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই স্কিমকে শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অসম্মানজনক উল্লেখ করে তারা বলেছেন, অর্থমন্ত্রণালয় গত ১৩ মার্চ শিক্ষকদের জন্য ‘প্রত্যয় স্কিম’ এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।  এটি কার্যকর হলে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসার আগ্রহ হারাবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রমও পিছিয়ে পড়বে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্র হয়ে যাবে সংকুচিত। তাই সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। 

গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আলটিমেটাম দেন।  এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সুপারগ্রেড কার্যকর ও স্বতন্ত্র বেতনস্কেলের দাবিও জানান তারা।  

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দেশের মোট ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। 

তারা বলেন, ২৫ মে এর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে ২৬ মে সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকেরা একযোগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। ২৮ মে সারা দেশে শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করবেন। ৪ জুন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়অ না হলে ওইদিনই বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম বলেন, এই পেনশন স্কিমের মাধ্যমে একটি গ্রুপকে ঠিক আলাদা করে দেয়া হলো। শিক্ষকদের জন্য সুপারগ্রেড নেই এটাই শিক্ষকদের জন্য অসম্মানজনক। 

পেনশন স্কিমের অসুবিধা তুলে ধরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, এই ব্যবস্থা সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য তৈরি করবে, যা সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। বর্তমান ব্যবস্থায় পেনশন বাবদ কোনো অর্থ কাটা করা হয় না। ‘প্রত্যয়’ স্কিমে মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ৫০০০ টাকা (যেটি সর্বনিম্ন) হারে টাকা কাটার বিধান রয়েছে। বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হন। ‘প্রত্যয়’ স্কিমে আনুতোষিক শূন্য। বিদ্যমান পেনশনার ও নমিনি আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হন।

‘প্রত্যয়’ স্কিমে পেনশনারের মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পূর্তি হওয়া পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্ত হবেন। বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় পেনশনের ওপর বৎসরিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়। বিদ্যমান ব্যবস্থায় অর্জিত ছুটি নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রস্তাবিত স্কিমে সে সুবিধা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ বছর। প্রত্যয় স্কিমে অবসরকালীন বয়স স্থির করা হয়েছে ৬০ বছর। বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনের সাথে মাসিক চিকিৎসাভাতা, বছরে দুটি উৎসবভাতা ও একটি বৈশাখীভাতা দেয়া হয়। প্রস্তাবিত স্কিমে বিষয়টি উল্লেখ নেই।

মহাসচিব আরো বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে এ ধরনের প্রদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া স্বায়ত্বশাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। হঠাৎ করে একটি মহল নিজেদের সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, শিক্ষকরা একটা ধৈর্যের পরিচয় সব সময় দিয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষক বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় যথার্থ বেতন নিয়ে থেকে যেতে পারতেন না? কিন্তু সেটি আমরা করিনি। কেনো করিনি? এই যে বলা হয় ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ নারী থেকে ৬ লাখ নির্যাতিত নারীর রক্তে ঘামে অর্জিত বাংলাদেশ। তাদের প্রতি আমাদের যে ঋণ তা আমরা শোধ করতে চাই। আমাদের মেধা আমাদের জ্ঞানকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে, এই বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে চাই। এখন এতে যদি কেউ বাধা দেয় সেটির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ আমরা করতে চাচ্ছি।

জনপ্রিয়