ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরিরা কেনো বঞ্চিত

মতামত

মো. সিদ্দিকুর রহমান

প্রকাশিত: ০০:০০, ৫ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ০৯:৪৯, ৫ এপ্রিল ২০২৪

সর্বশেষ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরিরা কেনো বঞ্চিত

সরকারি প্রাথমিকের দপ্তরি কাম প্রহরীরা বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি তাদের পদটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ অতি দরকারি পদটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ হতে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে সৃজন হয়েছিলো। সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি অফিস, হাসপাতালেও বহু আউটসোর্সিং ডিউটি করে থাকেন। অথচ প্রাথমিকের দপ্তরিদের দায়িত্ব পালন করতে হয় সার্বক্ষণিক। সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গি হতবাক করে দিয়েছে দেশ-বিদেশের সবাইকে। 

তাদের আট ঘণ্টার অতিরিক্ত ডিউটি পালন করার জন্য কোনো আলাদা পারিশ্রমিক দেয়া হয় না। স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিবর্তে এ ক্ষেত্রে আমরা চলে যাচ্ছি, সেই আদি বর্বর যুগে। এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের মাঝে তাদের উপলব্ধিবোধ জাগ্রত করার জন্য রেখে চলছি দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে। কেনো তাদের অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আসছে না? আশা করি বিষয়টি হৃদয় দিয়ে ভাববেন। বিনা পারিশ্রমিকে ৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত কাজ করানো শ্রম আইনের লঙ্গন। বিভিন্ন অফিস, হাসপাতাল পদটির তেমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নেই। তাদের অনুপস্থিতি স্বাভাবিক কাজ তেমন ব্যহত হয় না। তারা বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহযোগিতা না করলে মানসম্মত শিক্ষা অনেকাংশে ব্যাহত হবে। সারা দেশে প্রায় ৬৩ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও ৩৬ হাজার স্কুলে চলছে দপ্তরি কাম প্রহরী ছাড়া। 

এ বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা কারোই যেনো ভাবনায় আসছে না। সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয় কমপক্ষে একজন দপ্তরি নিয়োগ দিয়ে বৈষম্য দূর করবেন। এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারই আদর্শে গড়া ২৬ হাজার ১৯৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় শেখ হাসিনা জাতীয়করণ করেছেন। অথচ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা ২য় ধাপের ৪৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যাচাই-বাচাই করে জাতীয়করণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও আমলতান্ত্রিক জটিলতায় আজও ৪৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়নি। অথচ ৪৪টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ না করেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা জাতীয়করণ করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূর্ণবাস্তবায়ন না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

একই ছাদের নিচে অবস্থান করছে প্রাথমিকের শিক্ষক ও দপ্তরি। তাদের বেতন-ভাতা সুযোগ সুবিধা ও কর্মঘণ্টার মধ্যে বিশাল ব্যবধান। এ বৈষম্য দূর করে দপ্তরি কাম প্রহরীদের রাজস্ব খাতে নেয়ার প্রত্যাশা রইলো। সরকারি কর্মচারীসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের সরকার ঘোষিত ৫ শতাংশ প্রণোদনা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা পেয়ে আসছেন। অথচ প্রাথমিকের দপ্তরি কাম প্রহরীদের ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রীর সে প্রণোদনা ভাগ্যে জোটেনি। আরো জোটেনি বৈশাখী ভাতা। চাকরিতে প্রবেশের পর থেকে প্রাথমিকের দপ্তরি ঈদ উৎসব বোনাস পেয়ে আসছে। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের পর হতে সে ঈদ উৎসব বোনাস বন্ধ হয়ে গেছে।

রোজা ঈদ, পূজা-পার্বন, নববর্ষ বাঙালির জাতির সর্বজনীন উৎসব। সকল সরকারি-বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী ঈদ উৎসব বোনাস পেলেও কেনো প্রাথমিকের দপ্তরিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে? প্রাথমিকের দপ্তরিরা এদেশের শিশু শিক্ষার অতি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে থাকেন। দপ্তরি কাম প্রহরিরা বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দেখভালসহ সহযোগিতা করে থাকেন। একই ভবনে অবস্থান করেও তাদের প্রতি নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রীসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টিই পারে দপ্তরি কাম প্রহরীদের এক করুণ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে। 

দপ্তরি কাম প্রহরীদের সকল উৎসব ভাতা পুনর্বহাল, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে থেকে ৫ শতাংশ প্রণোদনা, সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা ডিউটির পরিবর্তে বিদ্যালয় চলাকালীন কর্মঘণ্টা নির্ধারণসহ পদটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের জন্য অতি জরুরি। দপ্তরি কাম প্রহরীদের মানবেতর জীবন যাপনের অবসান ঘটুক। এ প্রত্যাশায়। জয় বাংলা। 

লেখক: বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

জনপ্রিয়