ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ নভেম্বর ২০২২ ||  ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯ ||  ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকাশের সময়:
১০:২০, ২৪ নভেম্বর ২০২২

আমাদের বার্তা প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় যশোরবাসী

প্রকাশের সময়: ১০:২০, ২৪ নভেম্বর ২০২২

আমাদের বার্তা প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় যশোরবাসী

পাঁচ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার যশোর আসছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যশোরের মানুষ। সকালে বিমানবাহিনীর যশোর মতিউর রহমান ঘাঁটিতে শীতকালীন কুচকাওয়াজে যোগ দেওয়ার পর দুপুরে তিনি স্থানীয় শামস্‌-উল হুদা স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে যশোর। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে। চলছে মাইকিং। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আশায় বুক বেঁধেছেন যশোরবাসী। মেডিকেল কলেজ ৫০০ শয্যা, বিমানবন্দর আধুনিকীকরণ, ভবদহের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ নানা দাবিতে মুখর স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে স্বপ্নের পদ্মা, মধুমতী সেতুসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নয়ন ঘটেছে। এ উন্নয়ন ও দিনবদলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে এবং তাঁর মুখে আগামীর বার্তা শুনতে আগ্রহভরে অপেক্ষা করছেন যশোরের মানুষ।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ৫০ বছর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যশোরের যে স্থানে জনসমুদ্রে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানেই ভাষণ দেবেন তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা। করোনাকালের তিন বছর পর আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রথমবারের মতো সশরীরে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এই সমাবেশ থেকেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক বার্তা দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। অন্য নির্বাচনের আগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে শুরু হতো প্রচারণা, এবার যশোর থেকে সূচনা হচ্ছে নির্বাচনী তৎপরতা।

এদিকে, যশোরে শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে একগুচ্ছ দাবিতে সোচ্চার নাগরিক সমাজ। মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে যশোরবাসী। নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা, যশোরবাসীর প্রাণের দাবিগুলো আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় তা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন।

যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, মেডিকেল কলেজ চালুর এক যুগেও হাসপাতাল বাস্তবায়ন হয়নি। এটি যশোরবাসীর জন্য দুঃখজনক। অবিলম্বে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়নের দাবি জানাই।

এ ছাড়া যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতি মানে উন্নীতকরণ, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়ীতে তাঁর নামে একটি সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কয়েকটি দাবি যশোরবাসীর।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এনপি বলেন, খুলনা বিভাগের সাত জেলার আট লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে এই জনসভায়। গোটা শহরে পা রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। জননেত্রীর জনসভা সুন্দরভাবে শেষ করতে ইতোমধ্যে ৪০০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

১২০ ফুটের বিশাল নৌকামঞ্চ :জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন, নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নৌকার পরিমাপ ১২০ ফুট বাই ৪০ ফুট।

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু যে কোম্পানির মাইকে ভাষণ দিয়ে জাতিকে জাগ্রত করেছিলেন, সেই কলরেডির মাইকে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রথমবারের মতো আনা হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী কলরেডি কোম্পানির মাইক। জনসভার ভাষণ প্রচারে শহরজুড়ে থাকবে এই কোম্পানির তিন শতাধিক মাইক। নিখুঁত সাউন্ড সিস্টেম পেতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
ঐতিহ্যবাহী কোম্পানি কলরেডির মালিক ত্রিনাথ ঘোষ সাগর জানান, আয়োজকরা তাদের জানিয়েছেন, যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রায় আট লাখ লোক সমাগম হবে। এটি মাথায় রেখেই কাজ করেছে কলরেডি। কলরেডির সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সূর্যকান্ত বলেন, যশোর শামস্‌-উল হুদা স্টেডিয়াম থেকে শেখ হাসিনার ভাষণ প্রচার হবে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত।

গতকাল রাতে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর যশোরে যে জনসভা হতে যাচ্ছে, তা জনসমুদ্রে রূপ নেবে। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।