ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

ঝালকাঠিতে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

দেশবার্তা

কামরুজ্জামান সুইট, ঝালকাঠি

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

আপডেট: ২০:৪৬, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

সর্বশেষ

ঝালকাঠিতে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠানের খরচ দেখিয়ে ৬৫ হাজার টাকা বিল করেন তত্ত্বাবধায়ক। 

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন জানান, শোক দিবস অনুষ্ঠানে আমরা ৪টি সংগঠন (সিভিল সার্জন, সদর হাসপাতাল, বিএমএ, সাচিব) মিলে উদযাপন করেছি, সেখানে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমাদের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া, কর্মচারীদের হয়রানি, বিনা কারণে শোকজ, তদন্ত কমিটি গঠন, উৎকোচ দাবি, ভূয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

ডা. শামিমকে চলতি বছরের ৭ মার্চ রংপুর সিভিল সার্জন পদ থেকে বদলি করে ঝালকাঠিতে পাঠানো হয় ১১ মার্চ তিনি ঝালকাঠিতে যোগদান করেন। রংপুরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কোভিট-১৯ এর বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তিনি সমালোচিত হন। 

এ বিষয়ে রংপুর স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান অপু ও মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী ইলিয়াস হোসেন জানান, রংপুর জেলায় একদিনে ১ কোটি করোনার টিকা প্রদানের পারিশ্রমিক অনুদান বরাদ্দ ছিলো ২৫ লাখ টাকা। তখন রংপুরের সিভিল সার্জন পদে কর্মরত ছিলেন ডা. শামিম আহমেদ। ব্যাংক থেকে এ বরাদ্দ তুলে আমাদের না দিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় তাকে শাস্তিমুলক বদলি করা হয় ঝালকাঠিতে।

সূত্র জানায়, রংপুর থেকে ঝালকাঠি আসতে বদলি ভ্রমণ বিল বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা টাকা খরচ দেখান তত্ত্ববধায়ক। যা অবিশ্বাস্য ঘটনা। তিনি ডক্টরস কোয়ার্টারে একটি ফ্লাট নিয়ে থাকলেও মাত্র ১০ শতাংশ ভাড়া কাটেন। নির্ধারিত পূর্ণ ভাড়া না কেটে সরকারকে মোটা অঙ্কের ফাঁকি দিচ্ছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এসি এনে তার সরকারি কোয়াটারের বাসায় ব্যবহার করছেন। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের বকেয়া জ্বালানি বাবদ ১৬ লাখ টাকায় চালক মো. মহসীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। পেট্রোল পাম্পের ৭ মাসের এই বরাদ্দ পেয়ে তা পরিশোধ না করায় রোগীরা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আবার দ্বিতীয় দফায় তদন্ত কমিটি করেন তত্ত্ববধায়ক। 
চালক মহসীন জানান, তত্ত্ববধায়কের দাবি করা ১ লাখ টাকা উৎকোচ না দেয়ায় তদন্তের নামে হয়রানি করছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগেই আমাকে শোকজ করে জবাব চান। তার বিরুদ্ধে ভুয়া গর্ভবতী বহনের ঠিকানা দেখিয়ে নিজ ভ্রমণে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রতি মাসে ২৫/৩০টি ভুয়া গর্ভবর্তী রোগী বহন দেখিয়ে অ্যাম্বুলেন্স জ্বালানির সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। 

ডাক্তারদের আবাসিক ভবনে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালক মো. শাহাদাৎকে রেখে তার মাধ্যমে অপকর্ম করিয়ে ফায়দা নিচ্ছেন তত্ত্ববধায়ক। 

এসব বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. শামিম আহমেদ বলেন, বাসার এসি গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সকল বিল ভাউচার সঠিকভাবে অনুমোদন করা হয়। আমার বাস ভবনে ২৫ শতাংশ ভাড়া কেটেছি। বদলি ভ্রমণ বিল সরকারি নিয়মেই নিয়েছি। 

অপরদিকে তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তিনি চলতি বছরের ১১ মার্চ যোগদান করে এ পর্যন্ত ৮০ দিন অবৈধ ছুটি ভোগ করেন। তার ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে সরকারি ওষুধ সরবরাহ খাতের প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ফেরত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যথাসময়ে এ টাকার ওষুধ ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি সরবরাহের ওষুধ সংকটের কারণে বঞ্চিত রোগীরা। তার অধিকাংশ উদ্দেশ্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে হাসপাতালের ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি দ্বিমত পোষণ করলেও তিনি একক সিদ্ধান্তে ফায়দা হাসিল করেন বলে অভিযোগ। একইভাবে ২০০২৩-২৪ অর্থ বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট থাকা সত্বেও বিশাল অঙ্কের কীট ক্রয় করেন। ক্রয় কমিটির চাহিদা না নিয়ে আনা এ অতিরিক্ত কীটের বিনিময়ে স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় রাজাপুর ও নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন তিনি। একই অর্থ বছরে হাসপাতালের প্রায় ৫০টি জানালার রঙ্গিন গ্লাস কাগজে কলমে দেখিয়ে, লাগানো হয়েছে ২০টি। গণপূর্তের যোগসাযশে এভাবে তিনি তদারকি কমিটির সুপারিশ ছাড়াই সম্পূর্ল দেখিয়ে নিজেই প্রত্যয়নপত্র দিয়ে ফায়দা নিচ্ছেন বলে তথ্য রয়েছে। বিশাল স্বার্থের বিনিময়ে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের এমএসআর টেন্ডার কাজ চাপা দিতে ঝালকাঠির স্থানীয় কোনো দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেননি।
হাসপাতালে রোগীর খাবার সরবরাহের ঠিকাদার মো. সরওয়ার হোসেন স্বপন জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১২৫ টাকার স্থলে ১৭৫ টাকা বরাদ্দের নির্দেশনা দেয় ১ বছর আগে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশে তত্ত্ববধায়ক তা না দেয়ায় আমি উচ্চ আদালতে রিট করেছি। 

এসব বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. শামিম আহমেদ বলেন, বাসার এসি গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সকল বিল ভাউচার সঠিকভাবে অনুমোদন করা হয়। আমার বাস ভবনে ২৫ শতাংশ ভাড়া কর্তন করছি। বদলি ভ্রমণ বিল সরকারি নিয়মেই নিয়েছি। কর্মচারীদের অহেতুক শোকজ সঠিক নয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে তিনি জানান। 

জনপ্রিয়