ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

কোন দেশে কেমন হয় ঈদ-উল আজহা

আন্তর্জাতিক

আমাদের বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২০, ১৬ জুন ২০২৪

সর্বশেষ

কোন দেশে কেমন হয় ঈদ-উল আজহা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদ-উল আজহা বরণে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাব ও সময়ের বিবর্তন এসব বৈচিত্র্য গড়ে দেয় বিশেষ করে খাবারে।

ইরান
খাদ্যদ্রব্যের জন্য ইরানে ঈদ-উল আজহা নোনতা ঈদ বলেও অভিহিত হয়। কোরবানি পশুর গোশত দিয়ে নানান কিসিমের মুখরোচক খাদ্য প্রস্তুত করা হয়। বিশেষভাবে বলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের কাবাব এবং হালিম। বাঘালির মতো স্থানীয় খাবারেরও প্রাচুর্য থাকে এই সময়। [inside-ad-1]

আরব আমিরাত

শিশুরা দিনটাতে নতুন কাপড় পরে প্রতিবেশিদের ঈদ বিস্কুট বিলি করে। বাড়িকে সাজানো হয় ঈদের ব্যানারে। দুধ খুরমো এবং শির খুরমো নামে সুস্বাদু খাবার তৈরি হয়।

কানাডা

দিনটাকে উদযাপন করার জন্য কানাডার মুসলমানরা একত্রিত হয়। নানা রকম রাইড, শো কিংবা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। চলে বিভিন্ন রান্নাও। যদিও ঈদ-উল আজহা কানাডায় সরকারি বন্ধ হিসাবে স্বীকৃত নয়। তবে কর্মস্থলে মুসলমানদের চাপ দেওয়া হয় না। বিশেষ করে মুসলিম সংগঠনগুলো স্বেচ্ছায় এদিন বন্ধ বা কর্মবিরতি পালন করে। মসজিদ কিংবা ঈদের নামাজের স্থলে দেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা। 

ভারত

ভারতীয় উপমহাদেশে ঈদ-উল আজহা পরিচিত বকরি ঈদ নামে। নামটি মূলত বকরি কুরবানির ধারণা থেকেই গৃহীত। বৃষ্টি না হলে এদিনের বিশেষ নামাজ ঈদগাহেই পড়া হয়। সেখান থেকে ফিরে কোরবানি। ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ হওয়ায় ঈদের দিন সাধারণত ছাগল বা ভেড়া কোরবানির প্রাধান্য থাকে। 

পাকিস্তান

পাকিস্তানে ঈদ-উল আজহা চার দিনব্যাপী উৎসব হিসাবে পালিত হয়। বেশিরভাগ স্থানীয় দোকান এবং শপিং সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে যায়। নামাজের মধ্যদিয়েই শুরু হয় উৎসবের আমেজ।

সামর্থ্যবান প্রতিটি পরিবার তাদের সাধ্যমত পশু কোরবানি করে। যারা কুরবানি করতে পারেনি কিংবা যারা অক্ষম, তাদের নিমন্ত্রণ করা হয়। 

তুরস্ক

মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র তুরস্ক। ঈদ সেখানে সবচেয়ে পুরাতন উৎসবের মধ্যে একটা। আনাতোলিয়ার তুর্কি বেলিক এবং পরবর্তীদের অটোম্যান সাম্রাজ্যের উত্থানে তুরস্কে ঈদকে অন্যরকম মর্যাদায় উন্নীত করেছে। [inside-ad]

কোনো কোনো অঞ্চলে পশুকে মেহেদি ও কাপড় দিয়ে সাজানো হয়। অন্যান্য অঞ্চলের মতোই কুরবানির গোশত বণ্টন করে আত্মীয় ও অভাবীদের মধ্যে বিলি করা হয়। পশু হিসাবে থাকে সাধারণত মেষ।

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কে কেউ কেউ পশু কুরবানি না করে সমপরিমাণ অর্থ দরিদ্র তহবিল কিংবা মুসলিম উন্নয়ন সংস্থাতে দান করে। কেউ দরিদ্রদের বিশেষ দেখাশোনার ভারও গ্রহণ করে। ছুটির প্রথম দিনটা থাকে মূলত প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে যাবার জন্য।

মরক্কো

ঈদ-উল আজহা মরক্কোতে ঈদ-উল কাবির নামে স্বীকৃত। সাধারণত অন্যান্য দেশের মতোই দিনটা শুরু হলেও স্থানীয় সংস্কৃতির আমেজ দেখা যায়। মরক্কো একসময় মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্যতম বিচরণভূমি থাকায় ইসলামী প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। ঈদের দিন তারা স্থানীয় মসজিদ ও স্থাপত্য পর্যবেক্ষণে সময় দিতে পছন্দ করে। তাছাড়া কোরবানির পশু ও তাজিনের মতো স্থানীয় খাবার আত্মীয় ও দরিদ্রদের সাথে ভাগাভাগি করা হয়। 

মিশর

“ক্বুল সানা ওয়া ইনতা তায়েব” বলে মিশরীয়রা একে অপরকে অভিনন্দন জানায় পবিত্র ঈদ-উল আজহায়। ঈদকে ঘিরে আয়োজন করা হয় হরেক কিসিমের খাবারের। প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের মধ্যে দরিদ্রদের সাথে ভাগ করা হয় ঈদের আনন্দ।শহরব্যাপী অভাবীরা দিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকে। ধনী কিংবা মুসলিম সংস্থাগুলো থেকে যেন পর্যাপ্ত সাহায্য সহযোগিতা পায়। 

যুক্তরাজ্য

কয়েকটি ব্রিটিশ শহরে ঈদ-উল আজহা বেশ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালিত হয়। কিছু কিছু মসজিদে ইসলাম এবং ইসলামের ইতিহাস নিয়ে লেকচারের আয়োজন করা হয়। সাধারণত হিথ পার্ক ব্রিটিশ মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান বলে বিবেচ্য। 

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী মুসলিমরা সাধারণত বিক্ষিপ্ত। ঈদ তাদের জন্য একত্রিত হবার সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে শিকাগো এবং ফ্লোরিডাতে ভিড় জমে মধ্যপ্রাচ্য, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আফ্রিকা থেকে আসা মানুষের। নিজ ঐতিহ্যের পোশাক এবং খাবার দিয়ে তার ঈদকে বৈচিত্র্য দান করে।

তিউনিশিয়া

অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতো ঈদ-উল আযহা তিউনিশিয়াতে সরকারি ছুটি হিসাবে গণ্য হয়। ঈদের দিন পুরুষেরা সকাল সকাল ঈদগাহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নারীরা বাসায় অবস্থান করে প্রস্তুত করেন খাবার-দাবার।  ঈদের জন্য বিশেষ ধরনের পিঠা ও বিস্কুট তৈরি হয় তিউনিশিয়ায়। তাছাড়া শিশুদের জন্য থাকে মিষ্টি এবং খাবার।

জনপ্রিয়