ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪ , ৩ আষাঢ় ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

nogod
nogod
bkash
bkash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
nogod
nogod
bkash
bkash

সিনিয়র পেনশনভোগীদের না পাওয়ার বেদনা

মতামত

মো. সিদ্দিকুর রহমান

প্রকাশিত: ০০:০০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সর্বশেষ

সিনিয়র পেনশনভোগীদের না পাওয়ার বেদনা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধু ১০টি স্কেলে বেতন নির্ধারণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের পর পরবর্তী সরকারগুলো ১০টি স্কেলের পরিবর্তে ২০টি করে কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্যের পাহাড় তৈরি করেছেন। আগামী দিনে বেতন স্কেল পুনরায় ১০টি স্কেলে এনে বৈষম্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। বর্তমানে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে একদিকে চলেছে বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি। অপরদিকে ডলার সংকট। এ অসহনীয় অবস্থায় শেখ হাসিনার সরকার সর্বস্তরের জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সরকার সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের মালামাল টিসিবির মাধ্যমে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিচ্ছেন। অপর দিকে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থাসহ নানা রকমের উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারি, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী এ বিশাল উদ্যোগের পরও মহাসংকটে জীবন কাটাচ্ছেন সিনিয়র পেনশনভোগীরা। তাদের

সংকট উত্তরণে রইলো কতিপয় পরামর্শ:  

শতভাগ পেনশন সমর্পনকারীদের করুণ হৃদয় বিদারক অবস্থা প্রসঙ্গে 

যেহেতু বেশিরভাগ শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরা মাসিকভাতা পাচ্ছেন না। সেহেতু ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকারের ৫ শতাংশ প্রণোদনাও পাবেন না। তাদের ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা ছাড়া স্বপ্ন দেখার প্রশ্নই আসে না। সরকার শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের ১৫ বছর পর পেনশন পুনর্স্থাপনের এক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এতে খুবই নগন্য সংখ্যক পেনশনভোগী ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে পেনশনের সুবিধাসহ ৫ শতাংশ প্রণোদনার পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তাদের শতভাগ পেনশনের ৫০ ভাগ অর্থ ৮ বছরের মধ্যে যথারীতি মাসিক ভাতা গ্রহণ না করে পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অসহায় অবস্থায় আছেন শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরা। তাদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার শতভাগ পেনশন সমর্পণ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিধায় বর্তমানে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বরং মৃত্যুজনিত কারণে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমছে। তাদের স্বস্তিতে বেঁচে থাকার জন্য ১৫ বছরের স্থলে ১০ বছর পেনশন পুনর্স্থাপনের বিষয়টি সুবিবেচনার আশা রইলো।

প্রবীণ পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা 

নবীনদের তুলনায় প্রবীণরা বার্ধক্যজনিত কারণে রোগে-শোকে জর্জরিত। স্বাভাবিকভাবে তাদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি। বিশেষ করে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে ওষুধসহ চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি যৌক্তিকতা অবশ্যই বিবেচনাযোগ্য। 
প্রস্তাবনা-৬৫ বছরের নিচে ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা। ৬৫ বছর থেকে ৭০ বছরে ৭,৫০০/-(সাত হাজার পাঁচশত) টাকা। ৭০ বছরের ঊর্ধে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রদান করার প্রস্তাব রইলো। 

একই পদে পেনশনের বিশাল বৈষম্য

বঙ্গবন্ধু আজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তারই আদর্শে অবিচল থেকে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বৈষম্য দূর করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মরত থাকাকালীন লক্ষ্য করছি, জুনিয়ররা সিনিয়রদের চেয়ে কম বেতন পেয়ে থাকেন। অথচ পেনশনের ক্ষেত্রে জুনিয়র পেনশনভোগীরা সিনিয়রদের চেয়ে ভাতা বেশি পান। পেনশনভোগীদের ওই বৈষম্য অনেকটা গীতিকবি হাছন রাজার গানের মতো। ‘কেহ বলে বয়স বাড়ে, আমি বলি কমে’। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে আয়ু কমে কিন্তু সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক দায়ভার কমে না। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছিলো খুবই কম। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন ধারণ ছিলো অতি কষ্টের। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের পর এ কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে। ওই সময় তাদের বেতন স্কেল দ্বিগুণ বৃদ্ধি হওয়ায় বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বৈষম্য স্বাভাবিক নিয়মনীতির পরিপন্থী। এ আমানবিক বৈষম্য দূর করা জরুরি। 

সামাজিক মর্যাদা

সিনিয়র পেনশনভোগীরা রোগে-শোকে আর্থিক অসচ্ছল থাকলেও সমাজে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদার অধিকারী। জীবনের দীর্ঘসময় দেশ ও জাতির সেবা করে আজকে তারা মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক দৈন্যতায় পর্যদুস্ত। সিনিয়র পেনশনভোগীরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশীদার। তাদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে হাসপাতাল, যানবাহনসহ সব ক্ষেত্রে আলাদা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আজও যুবক-যুবতি সবার সঙ্গে প্রবীণদের একই লাইনে হুমড়ি খেয়ে অবস্থান করতে হয়। 
প্রবীণদের বয়সের ভারে অসহায় বিবেচনা করে, তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেয়া প্রয়োজন। তাদের দেশ ও জাতির প্রতি ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে যৌক্তিক সমস্যা দূরীকরণের প্রত্যাশা রইলো। স্বস্তিতে ও সুখে থাকুক সিনিয়র পেনশনভোগীরা। এ আশা করছি। 

লেখক: সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ
 

জনপ্রিয়